ভারতীয় ভিসা নেবার নিয়মাবলী :
বাংলাদেশের মধ্যে ঢাকা,খুলনা,সিলেট,ময়মনসিং,রাজশাহী আর চট্রগ্রামে ভারতীয় ভিসার জন্য
আবেদন করা যায় । ঢাকাতে আগে শ্যামলী,উত্তরা,মতিঝিল আর গুলশানে আবেদন পত্র জমা নিত। এখন একমাত্র বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা
সংলগ্ন যমুনা ফিউচার পার্ক শপিং সেন্টারের বেইজমেন্টে জমা নেয়।
ইন্ডিয়ান / ভারতীয় ভিসা প্রসেসিং ধাপ সমূহঃ
১. আবেদন ফর্ম পূরণ করে রেডি করা (সফট কপি পিডিএফ আকারে এবং প্রিন্ট আকারে হার্ড কপি)
২. প্রয়োজনীয় কাগজপত্রাদি সংগ্রহ (কাগজপত্রের তালিকা নিচে আলোচনা করা হয়েছে)
৩. ভিসা আবেদন ফি পরিশোধ করা (ভিসা ফি সম্পর্কে নিচে আলোচনা হয়েছে)
৪. ভিসা আবেদন জমা দেয়া (ভিসা ফর্ম সহ সকল কাগজপত্র হার্ড কপি আকারে ইন্ডিয়ান ভিসা সেন্টারে জমা দিতে হবে। )
৫. পাসপোর্ট সংগ্রহ বা ফেরত নেয়া। (আপনাকে যে স্লিপ দেওয়া হবে তাতে উল্লেখ
থাককে কবে পাসপোর্ট ফেরত নিবেন। আপনার মোবাইলেও এস,এম,এস আসবে)
ভারতীয় ভিসার জন্য
আবেদন ফর্ম
পূরন করার
আগে যে সমস্ত ডকুমেন্টস লাগবে তার তালিকা দেওয়া হলঃ
১) অনলাইনে আবেদন ফর্মটির প্রিন্ট কপি
২) জাতীয় পরিচয়পত্র / জন্ম নিবন্ধন পত্রের ফটোকপি
৩) পাসপোর্টে যে বাসার ঠিকানা দেওয়া আছে সেই বাসার বিগত ২/৩ মাসের মধ্যে যেকোনও একমাসের বিদ্যুৎ / টেলিফোন / পানি / গ্যাস এর বিলের ফটোকপি
৪) ব্যাংক স্টেটমেন্ট / ডলার এন্ডোর্সমেন্টের সার্টিফিকেট
৫) প্রত্যয়নপত্র ব্যক্তিগত / প্রাতিষ্ঠানিক
৬) অপ্রাপ্ত বয়স্ক / শিশুদের ক্ষেত্রে বাবা / মায়ের ভিসার কপির ফটোকপি / পে স্লিপ কিংবা সরকারী চাকুরী প্রাপ্তদের ক্ষেত্রে সরকারী অর্ডার / GO (Government
Order)
৭) ট্রেড লাইসেন্স এর ফটোকপি (ব্যবসায়ী হলে)
৮) জমির খতিয়ানের ফটোকপি (পেশা কৃষি হলে)
৯) সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অনাপত্তি (NOC) যদি পেশা চাকুরী হয়
১০) স্কুল আইডি কার্ড / বেতন জমাদান রশীদ (পেশা স্টুডেন্ট হলে)
১১) পাসপোর্টের ফটোকপি
১২) পুরাতন পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে লস সার্টিফিকেট / সাধারণ ডায়েরীর কপি
নতুন পাসপোর্ট হলে পুরাতন পাসপোর্ট অবশ্যই সংযুক্ত করতে হবে।
১৩) এক কপি ২" x ২" এই সাইজের সদ্য তোলা পাসপোর্ট ছবি।
** আবেদন পত্র জমাদানের সময় অবশ্যই যেসব মূল কপি আনতে হবে তা হলঃ
১) জাতীয় পরিচয়পত্র / জন্ম নিবন্ধনের মূলকপি
২) ব্যাংক স্টেটমেন্ট / ডলার এন্ডর্সমেন্টের মূলকপি
৩) বিদ্যুৎ / পানি / টেলিফোন / গ্যাস যেকোনও একটির মূলকপি যার ফটোকপি জমা দিবেন।

প্রথমে ইন্ডিয়ান হাইকমিশনের ওয়েবে ঢুকতে হবে। ওয়েব লিংক নিচে দেওয়া হল।
এরপর আবেদন পত্র সঠিক নিয়মে পূরন করুন ।
আবেদন
ফরম যথাযথ ভাবে সঠিক ভাবে পুরণ করুন। খুবই সহজ। ধীরে সুস্থে ঠান্ডা মাথায় ফর্ম
পূর্ণ করুন। এরপর তা পিডিএফ আকারে সফট কপি হিসেবে সেভ করুন, এবং প্রিন্ট করে হার্ড
কপি আকারে সংরক্ষণ করুন। আমার এপ্লিকেশন কপিটি এখানে শেয়ার করলাম। রেফারেন্স
হিসেবে।

কিভাবে এপ্লিকেশন ফর্ম পূরণ করা উচিত তা ডিটেইলে ইন্ডিয়ান ভিসা এপ্লিকেশন সেন্টার ওয়ী দেওয়া আছে। এখানেও পড়ে নিতে পারেন।
উপরের ডকুমেন্টস গুলোর ডিটেইলস নিচে আলোচনা করা হলঃ
১) আবেদনের তারিখে পাসপোর্টের মেয়াদ ছয় মাস বা
তার বেশি থাকতে হবে । সঠিক নিয়মে ফর্ম পূরন করতে হবে । আপনার ফর্ম পূরনের সময় একটি
তারিখ জানতে চাইবে আপনি কবে ভিসা ফর্ম জমা দিবেন । আপনার সুবিধা মত তারিখ নির্বাচন
করুন ।
২) ব্যাংক থেকে ১৫০ ডলার কিংবা তার বেশী পাসপোর্ট
এ এন্ডোস করা থাকতে হবে। সাথে সার্টিফিকেট নিতে ভুলবেন না । যদি ডলার এন্ডোস না
করেন তবে আপনার গত তিন মাসের ব্যাংক এস্টেটম্যান্ট জমা দিতে হবে। ব্যাংকে কমপক্ষে
২০০০০/= ( বিশ হাজার টাকা ) সমাপনী ব্যালেন্স রেখে ষ্ট্যাটমেন্ট জমা দিবে ।
৩) নাগরিকত্ব সার্টিফিকেট বা ন্যশনাল আইডি
কার্ডের ফটোকপি নিবেন । যদি স্কুল , কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়
বা অফিসের আইডি থাকে তাও ফটোকপি জমা দিবেন । (একটা মূল কপি নিয়ে যাবেন যদি লাগে
তারা নিবে । কাজ শেষে ফেরত দিবে ।
৪) আপনি কি করেন তা প্রমানের জন্য যে কোন
সার্টিফিকেট নিবেন (ব্যবসা হলে আপনার ট্রেড লাইসন্সের ফটোকপি কিংবা চাকুরী করলে
যথাযত পক্ষের থেকে লেটার নিতে হবে। উভয়ক্ষেত্রে ভিজিটিং কার্ড নিবেন) । অফিস থেকে
ছুটি মঞ্জুরের অনুমতিপত্র ও জমা দিতে হবে ।
৫) কমিশনার বা চেয়ারম্যানের সনদপত্র হলে চলবে । যে বাড়ির ঠিকানা
আপনার পার্সপোটে উল্লেখ করা আছে সেই বাড়ির বিদ্যুৎ /পানি /ফোন / গ্যাস বিলের
ফটোকপি জমা দিন । একটা মূল কপি নিয়ে যাবেন যদি লাগে তারা নিবে । কাজ শেষে ফেরত
দিবে ।
৬) ট্যুরিষ্ট ভিসা একবছরের জন্য প্রদান করা হয় ।
এটার মেয়াদ কোন ভাবেই বাড়ানো যায় না ।
৭) চিকিৎসা সংক্রান্ত ভিসার জন্য যেতে হলে ডাক্তারের
নাম ,
ভিজিটিং কার্ড, এপয়েন্টম্যান ডেট, রুগীর সকল কাগজপত্র, বাংলাদেশের ডাক্তারের রের্ফাড
এর কাগজ জমা দিতে হবে । চিকিৎসা সংক্রান্ত ভিসার মেয়াদ বাড়ানো যায় ।
৮) অফিসিয়াল আমন্ত্রন পেলে সেই আমন্ত্রন পত্রে
কপি জমা দিতে হবে ।
৯) ট্রানজিট ভিসার ক্ষেত্রে নেপাল বা ভুটানের
ভিসা আগে নেয়াটা ভাল । সে ক্ষেত্রে আপনি ৭২ (বাহাত্তর ঘন্টা) ভারতে অবস্থানের
সুযোগ পাবেন ।
১০) ভিসা ফি-
ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্র আবেদনপত্র প্রতি ভিসা প্রসেসিং ফি ৮২৪
(টাকায়) জমা দিতে হবে। এই ফি আপনি চাইলে বিকাশ / ইউক্যাশ/ ভিসা কার্ড/ ডিবিবিএল
নেক্সাস এর মাধ্যমে জমা দিতে পারেন। ইন্ডিয়ান হাইকমিশনের ওয়েব সাইটে অনলাইন
পেমেন্ট অপশনে গিয়ে আপনার আবেদন পত্রের বিপরীতে এই পেমেন্ট জমা দিন। মনে রাখবেন
হার্ড কপি সহ আবেদন পত্র হাইকমিশনে জমা দেওয়ার আগেই এই পেমেন্ট টি দিয়ে দিতে হবে।
১১) ভিসা ফর্ম জমা নেয়ার সময় সকাল ৮টা থেকে বেলা
১টা ( সময় পরির্বতন করা হয় )
১২) পার্সপোট ফেরত দেয়ার সময় বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা (সময়
পরির্বতন করা হয় )
১৩) ভিসা সেন্টারে ফোন ব্যবহার নিষেধ । ভিসা সেন্টারে বড় কোন ব্যাগ
সাথে রাখা যাবে না ।
১৪) ছবির মাপ ২ ইঞ্চি বাই ২ ইঞ্চি হতে হবে, বেশী পুরানো হলে
চলবে না। বর্তমান চোহারা ফুটে উঠতে হবে !
কমপক্ষে বিশ দিন আগে ভিসার জন্য আবেদন করা ভাল ।
বাংলাদেশীদের যেই যেই ক্যাটাগরিতে ভারতীয় ভিসা দেয়া হয় !
১. বিজনেস ভিসা
২. সিঙ্গেল এন্টি ভিসা
৩. সিঙ্গেল এন্টি ট্র্যানজিট ভিসা
৪. ডাবল এন্টি ট্র্যানজিট ভিসা
৫. মেডিক্যাল / মেডিক্যাল এটেডডেন্ট
৬. সাংবাদিক
৭. ষ্টুডেন্ট
৮. রির্সাচ ভিসা
৯. কনফারেন্স
১০. এম্পমেন্ট ভিসা
১১. ট্রেনিং
চাকুরী করলে যথাযত পক্ষের থেকে লেটার
ReplyDeleteঅফিস থেকে ছুটি মঞ্জুরের অনুমতিপত্র
এই দুইটার ফরমেটটি দিলে ভাল হত